আমার সম্পর্কে
মুক্ত চিন্তা ও সত্যের সন্ধানে এক নিরন্তর যাত্রা।
আমি কে?
আমি একজন নাস্তিক। এই পরিচয় দিতে আমি লজ্জিত নই — ভয়ও পাই না।
বাংলাদেশে জন্ম নিয়েছি, বড় হয়েছি ধর্মের ছায়ায়। আজান শুনে ঘুম ভাঙত, নামাজ পড়তাম, রোজা রাখতাম। কোরআন তিলাওয়াত করতাম বুঝে না বুঝে। ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা ছিল পাপ — বরং সেই প্রশ্ন মাথায় আসাটাই ছিল শয়তানের কাজ বলে শেখানো হয়েছিল। কিন্তু প্রশ্ন এসেছিল। এবং সেই প্রশ্নকে আমি আর থামাতে পারিনি।
পরিচয়
আমার নাম Md Badsha Miah। পড়াশোনা করেছি BSS in Political Science নিয়ে। পড়াশোনা আমাকে একটাই জিনিস শিখিয়েছে — সাক্ষ্যপ্রমাণ ছাড়া কোনো দাবি মেনে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। সেই শিক্ষাই একদিন আমার বিশ্বাসের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছিল।
যেভাবে প্রশ্নগুলো এসেছিল
বিশ্বাস একদিনে ভাঙে না। এটা একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়া — যেন একটি পুরোনো দেওয়াল আস্তে আস্তে খসে পড়ে।
প্রথমে প্রশ্ন জাগল কোরআনের তথাকথিত বৈজ্ঞানিক দাবিগুলো নিয়ে। একদিকে বিবর্তনবাদ, অন্যদিকে আদম-হাওয়ার গল্প। একদিকে মহাবিশ্বের বয়স প্রায় ১৩৮০ কোটি বছর, অন্যদিকে ছয় দিনে সৃষ্টির দাবি। একদিকে মানব মস্তিষ্কের স্নায়ুবিজ্ঞান, অন্যদিকে জিন-শয়তানের কাহিনি। তারপর প্রশ্ন এল হাদিসের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে। তারপর ইসলামের রক্তাক্ত ইতিহাস নিয়ে।
আর তারপর সেই প্রশ্নটা — যার উত্তর কোনো আলেম, কোনো মুফতি, কোনো ধর্মগ্রন্থ আজ পর্যন্ত সৎভাবে দিতে পারেনি: "যে ঈশ্বর শিশুদের বোমার আঘাতে মরতে দেন, মায়েদের কাঁদতে দেন, ধর্ষকদের পার পেয়ে যেতে দেন — তিনি কীভাবে পরম দয়ালু?"
বিশ্বাস ভাঙার পর
ধর্ম ছাড়ার পর কি জীবন শূন্য হয়ে গেছে? না। বরং উল্টোটা। প্রথমবারের মতো অনুভব করলাম — এই পৃথিবীটা আসলেই সুন্দর, এবং এই সৌন্দর্যের জন্য কোনো স্বর্গের প্রয়োজন নেই। বুঝলাম, জাহান্নামের ভয় ছাড়াও নৈতিক মানুষ হওয়া যায় — বরং সেটাই প্রকৃত নৈতিকতা। আর এই একটাই জীবন — এই সত্য জানার পর প্রতিটি মুহূর্ত অনেক বেশি মূল্যবান হয়ে উঠেছে। আমি এখন মুক্ত। সত্যিকারের মুক্ত।
আমি কেন লিখি
বাংলাদেশে নাস্তিক হওয়া সহজ নয়। অভিজিৎ রায়, আসিফ মহিউদ্দিন, তসলিমা নাসরিন, হুমায়ুন আজাদ — এই নামগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় সত্য বলার মূল্য কতটা চড়া হতে পারে।
তবু আমি লিখি। কারণ নীরব থাকা মানে সম্মতি দেওয়া। কারণ প্রতিটি প্রজন্মে এমন কেউ থাকা দরকার যে সত্য বলার সাহস রাখে। এই ব্লগ তাদের জন্য, যারা মনে মনে প্রশ্ন করে কিন্তু মুখ খুলতে পারে না। আমি জানি এই পথ বিপজ্জনক, তবু কলম থামাব না।
আমার বিশ্বাস
- আমি বিশ্বাস করি মানুষে
- আমি বিশ্বাস করি বিজ্ঞানে
- আমি বিশ্বাস করি যুক্তিতে
আমি বিশ্বাস করি না কোনো অদৃশ্য সত্তায়, কোনো অলৌকিক ঘটনায়, বা কোনো ধর্মগ্রন্থের অভ্রান্ততায়। আমি মনে করি মানব সভ্যতার সবচেয়ে বড় শত্রু হলো অন্ধ বিশ্বাস এবং প্রশ্ন করার ভয়। এই ব্লগে আমি প্রতিদিন সেই ভয়কে চ্যালেঞ্জ করব।
"যা প্রমাণ ছাড়া দাবি করা যায়, তা প্রমাণ ছাড়াই খারিজ করা যায়।"— ক্রিস্টোফার হিচেন্স